আনুষ্ঠানিক চুক্তির আগেই সিলেটে আবিষ্কৃত তেলের খনিতে কূপ খননের কাজ শুরু করেছে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি স্লামবার্জার। আগামী আগস্টের মধ্যে এ কাজ শেষ হবে। তারপরই জানা যাবে খনিতে তেলের প্রকৃত মজুত ও উত্তোলনযোগ্য তেলের পরিমাণ। কূপ খননে ব্যয় হবে আড়াইশ কোটি টাকা। তবে স্লামবার্জার কাজ শুরু করলেও আনুষ্ঠানিক চুক্তি হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। সিলেট গ্যাস ফিল্ডের (এসজিএফএল) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
চুক্তির আগেই কূপ খনন প্রসঙ্গে সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান কালবেলাকে বলেন, ‘আমরা স্লামবার্জারকে নোটিফিকেশন অ্যাওয়ার্ড দিয়ে দিয়েছি। ডিপিপিও অনুমোদন হয়ে গেছে। এসব কাজে সময় লাগার কারণে সরকারের উচ্চপর্যায়ের পরামর্শেই চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই কাজ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। আগস্টের আগেই খনন শেষ হবে, তখন ফল জানা যাবে। আর ঈদের পরপরই আনুষ্ঠানিক চুক্তি করা হবে।’
এসজিএফএলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তেলের খনিতে কূপ খননের তাগাদা ছিল। এ কারণে স্লামবার্জারের সঙ্গে দুই দফা টেকনিক্যাল বৈঠক হয়েছে। পরে চলতি মাসের শুরুতে খননের কাজ করতে তাদের নোটিফিকেশন অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। আর গত সপ্তাহে এ সংক্রান্ত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন দিয়েছে অর্থ বিভাগ। ওই কর্মকর্তা জানান, এ কূপের জন্য বিভিন্ন দপ্তরের অনুমোদন নিতে দেরি হওয়ায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের পরামর্শেই স্লামবার্জারকে কাজ শুরুর জন্য বলা হয়। তারা কাজ শুরু করে দিয়েছে।
গত বছরের ১০ ডিসেম্বর সিলেট-১০ কূপের একটি স্তরে তেল পাওয়ার ঘোষণা দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। একই কূপে গ্যাসের তিনটি স্তর পাওয়া গিয়েছিল। সিলেটের তামাবিল অঞ্চলে ৮ দশমিক ৪৮ একর এক ফসলি জমিতে অনুসন্ধান কূপ খননের সময় তেলের অস্তিত্ব পাওয়ায় সরকারি নীতিনির্ধারকদের ব্যাপক আশাবাদী করে তোলে। সম্ভাবনার বিষয়টি মাথায় রেখে সিলেট-১০ নম্বর কূপ হিসেবে চিহ্নিত এ কূপের কাছাকাছি তেলের জন্য একটি-দুটি কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি সিলেট গ্যাস ফিল্ড কর্তৃপক্ষ।